post-thumb

কাজের বুয়া নিয়োগের ক্ষেত্রে গৃহকত্রী একটু সচেতন হলে এমন অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে। কাজের বুয়া নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সতর্কতা অবলম্বব করতে হবে তা জানাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

কাজের বুয়া/ কাজের লোক নিয়োগের আগে করণীয়:

১. কাজের বুয়া/কাজের লোক নিয়োগের আগে তার নিকট হতে জাতীয় পরিচয় পত্র, সদ্য তোলা রঙ্গিন ছবি, সনাক্তকারী ব্যক্তি, ব্যক্তির পরিচয় ও তার জাতীয় পরিচয় পত্র নিন।

২. সমস্ত তথ্য নেয়ার পর তথ্য যাচাই করার জন্য নিকটস্থ থানায় কাজের বুয়া/ কাজের লোকের তথ্য প্রদান করুন এবং নিজের কাছে রাখুন। তাতে করে সে যদি পূর্বে কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে পুলিশ তাকে সহজে সনাক্ত করতে পারবে।

৩. পূর্ববর্তী সময়ে সে কোথায় কাজ করেছে তার বিস্তারিত তথ্য নিন এবং কাজ ছাড়ার কারণ জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে পূর্বের কাজের ঠিকানায় যোগাযোগ করে তার তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন।

৪. কাজের বুয়া/ কাজের লোকের পরিবারে তথ্য নিন। তার স্থায়ী ঠিকানা ও পরিবারে কে কে আছে তা জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে তার স্থায়ী ঠিকানায় যোগাযোগ করে দেখতে পারেন, সে আসলে ওই ঠিকানায় বসবাস করে কি না। এত কিছু খোঁজ খবর অনাবশ্যক মনে হতে পারে। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হলে তখন আফসোসের অন্ত থাকবে না।

৫. বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর সব মানুষের তথ্য সংরক্ষণের কাজ করছে। ডিএমপি কর্তৃক নির্ধারিত তথ্য ফরমে আপনার কাজের বুয়া/ কাজের লোকের তথ্য পূরণ করে থানায় জমা দিন।

কাজের বুয়া/ কাজের লোক নিয়োগের পরে যা করবেন:

১. নিয়োগের পর কাজের বুয়া/কাজের লোকের গতিবিধি লক্ষ্য করুন। তার চালচলনে আপনি বুঝতে পারবে সে আসলে কেমন ব্যক্তি।

২. বাসার মেইন গেইটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে পারেন। এতে করে আপনার বাসায় কোন অপরিচিত লোকের আনাগোনা হচ্ছে কি না তা দেখতে সহজ হবে। প্রয়োজনে ঘরের ভেতরেও সিসি ক্যামেরা লাগানো যেতে পারে যাতে আপনার অনুপস্থিতিতেও কাজের বুয়ার কর্মকাণ্ড মনিটর করতে পারেন।

৩. বাসায় মূল্যবান জিনিসপত্র, স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা কাজের বুয়া/ কাজের লোকের অগোচরে রাখুন। আপনার লকারের চাবি সবসময় আপনার কাছে রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে যে রুমে লকার/আলমারি রয়েছে সে রুম আলাদাভাবে লক করে রাখুন।

৪. বাড়িতে কাজের বুয়া/ কাজের লোককে একা রেখে সবাই বাড়ি ছেড়ে যাবেন না। বাচ্চা রেখে গেলে সঙ্গে আরো একজনকে রাখুন। কোনো অবস্থাতেই বাচ্চাকে একা রেখে যাবেন না।

৫. কাজের বুয়ার চাহিদা বুঝার চেষ্টা করুন। তাতে করে সে লোভী কি না জানতে সহজ হবে।

৬. সন্দেহজনক কারোর সঙ্গে কাজের বুয়া মোবাইলে কথা বলে কি না অথবা তার কাছে সন্দেহজনক কেউ দেখা করতে আসে কি না এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন।

৭. বাড়িতে গ্যাসের চুলা, ইলেক্ট্রিক যন্ত্রাংশ ব্যবহারে কাজের বুয়া/ কাজের লোক সতর্ক রয়েছে কি না লক্ষ্য করুন। অসতর্কতার ফলে যেকোন বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৮. কাজের লোক/বুয়াকে নিয়ে কোথাও ভ্রমণে গেলে সবসময় সঙ্গেই রাখুন। সে হারিয়ে গেলে বা কোন দুর্ঘটনা ঘটলে আপনাকেই বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

৯. সর্বশেষ, আপনার বাসার কাজের লোক/বুয়ার সঙ্গে মানবিক আচরণ করুন।

আপনার সচেতনতাই রুখতে পারে কাজের বুয়া/ কাজের লোকের অপরাধের তৎপরতা। কাজের বুয়া/ কাজের লোককে অতি বিশ্বাস না করাই শ্রেয়। তাদেরকে নজরদারীতে রাখুন আপনার স্বার্থেই। আপনার যেকোনো প্রয়োজন ও সমস্যায় যোগাযোগ করুন নিকটস্থ থানা বা ফাঁড়ির পুলিশের সঙ্গে।

Share your thoughts Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment